খালেদার আত্মসমর্পণ, জামিন আবেদন

1434537771নাশকতা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের পাঁচ মামলায় আত্মসমর্পণ ও আদালতের সমনে হাজিরা দিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আদালতে পৌঁছে যাত্রাবাড়ী থানার বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় (মামলা নম্বর ৫৯) আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি আদালতে পৌছান। এর আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি সবগুলো মামলাতেই জামিন চাইবেন। খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে-রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় দু’টি মামলা, গুলশান থানার একটি নাশকতার মামলা, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। মামলাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াসহ পলাতক ২৮ জনের বিরুদ্ধে গত বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত। মামলাটির মোট আসামি ৩৮ জন। একই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় (মামলা নম্বর ৫৮) একই আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক পৃথক আরো দু’টি চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এ মামলায় জামিন চাইবেন খালেদা জিয়া। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলাটিতে সমন জারি করা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করায় ঢাকার সিএমএম আদালতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। এ মামলায়ও হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছে খালেদা জিয়ার প্রতি। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার এ আদেশ দেন।