বরিশালে ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই পক্ষের বিরোধ .

1463291472নগরীর দিয়াপাড়াস্থ ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সভাপতির পদ দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বিদ্যালয়টি। একপক্ষের হয়রানিমুলক অভিযোগে কোনঠাসা হয়ে পড়ছে বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি থেকে শুরু করে শিক্ষকবৃন্দ পর্যন্ত। এছাড়া ওই বিরোধের জের ধরে যে কোনো সময় এ বিদ্যালয়টি হামলার শিকার হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সুত্রমতে, ১৯৭০ সালে দিয়াপাড়ায় স্থাপিত হয় ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেই থেকে অদ্যবদি সুনামের সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ দখলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে বিদ্যালয়টির। পদ দখলে ব্যর্থ স্থানীয় প্রভাবশালীরা পদে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উঠিয়ে দিচ্ছে নানান অভিযোগ। বর্তমান সভাপতিকে তার পদ থেকে বিতারিত করতে বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের নিয়েও জোগানো হচ্ছে অভিযোগের রশদ। এক জ্ধসঢ়;নকে ঘিরে অভিযোগ বানানো হলেও এর প্রভাব থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকারা। তাই এসব মিথ্যা অভিযোগ থেকে নিজেকে এবং বিদ্যালয়কে রক্ষা করতে সংবাদ কর্মীদের স্বরনাপন্ন হয়েছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাবু। সভাপতি অভিযোগ করেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি অত্র স্কুলের
সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ছিলেন ২৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম জুয়েল। পার্শবর্তি ২৭ নং ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাবু’র সাথে সভাপতি পদে হেরে যাওয়ায় তার ওই পদ ছিনিয়ে নিতে বাবুর প্রতিপক্ষ অন্যান্য নেতাকর্মীদের হাতে নিয়ে নেমে পরে জুয়েল। তার এ কাজে প্রত্যক্ষভাবে পাশে থেকে রশদ জুগিয়ে যাচ্ছেন ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ হাওলাদার। বাবুর অভিযোগে জানা যায়, আওয়ামী লীগ
সভাপতি আব্দুর রশিদ হাওলাদার এরআগে অত্র ওয়ার্ডে দুই বার কাউন্সিলর নির্বাচন করে হেরে গিয়ে পুনরায় নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে একই ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাবু জন-প্রতিনিধিত্বে এগিয়ে থেকে প্রথম বারের মতে। প্রস্তুতি নিচ্ছেন কাউন্সিলর নির্বাচন করার জন্য। আর এতেই বাবুর সাথে চরম বিরোধের তৈরি হয় সভাপতি আব্দুর রশিদ হাওলাদারের। তাই বাবুর প্রতিপক্ষের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জরিত
হয়ে তার ক্ষতি করার প্রচেষ্টায় সর্বদা লিপ্ত থাকেন তিনি। তিনি নিজ পেশিশক্তি বাড়াতে রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি গাড়ি পোড়ার একাধিক মামলার আসামি হুমাউন কবির তালুকদারের মতো ব্যক্তিকেও হাতে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বাবু। বাবু বলেন, সমাজে আমাকে হেয় করার জন্যই ওই পক্ষটি আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে সকলে চোখে আমাকে খারাপ বানানো।এরইধারাবাহিকতায় তাকে নিয়ে ওই পক্ষটি কথা রটাচ্ছে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে নিয়ে। বাবু জানান, সভাপতি হয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কারো সমস্যায় ঝাপিয়ে পড়া কোন অন্যায় কাজ হতে পারেনা। তবে এ অভিযোগগুলোকে সাজানো দাবি করে ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ হাওলাদার জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ দখলের কোন লড়াই এখানে নেই। তিনি তার উল্টো অভিযোগে জানান, সভাপতি হয়ে অত্র বিদ্যালয়ের একজন বিবাহিত শিক্ষিকাকে নিয়ে পলায়ন করায় অত্রস্কুলের ছাত্রীদের অভিভাবকরা অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গের কাছে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ বিকালে বিদ্যালয়ে এক জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এদিকে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগের কথা উঠলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে এমন কোনো অভিযোগের খবর আসেনি বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাবুর সাথে কারো
ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলে সেটা স্কুলের কোন বিষয় নয়। তিনি জানান, বিদ্যালয় সভাপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলে তাকে ঘায়েল করতে অপরপক্ষ বিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুন্ন করছে।