স্বর্ণের দাম দুই বছরে সর্বোচ্চ

1454176068স্বর্ণের গহনা পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই, বিশেষ করে নারীদের কাছে খুবই মূল্যবান। কিন্তু গত বুধবার মূল্যবান এই ধাতুটির দাম বেড়ে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

একই সঙ্গে রুপার দাম বেড়েছে ৩ শতাংশ। ডলারের দুর্বল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে স্বর্ণের দামে বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।

আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে বুধবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৯ ডলার বা ০.৭ শতাংশ। এদিন মূল্যবান ধাতুটির প্রতি আউন্সের দাম স্থির হয় ১ হাজার ৩২৬ ডলার ৯০ সেন্টে। এ দাম ২০১৪ সালের ১১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক বাজারে সৃষ্ট ঝুঁকির কারণে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের কেনাবেচা হয়েছে ০.৩ শতাংশ বেশি হারে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৫ শতাংশ বেশি। এদিকে এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টের সূচক বেড়েছে ১ শতাংশ।

থিংকফরেক্সের প্রধান বাজার বিশ্লেষক নাইম আসলাম জানান, যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া-বিষয়ক লিসবন ট্রিটির ৫০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পণ্যবাজারের অস্থিরতা আরো বাড়বে। আর এ অস্থিরতা ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম বাড়ায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিচ্ছেদ-বিষয়ক ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী আলোচনা চলার পুরো সময়ে বাজারে এ অস্থিরতা বিরাজ করবে।

এদিকে স্বর্ণের বাজারের চেয়েও বুধবার রুপার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে বেশি। সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে রুপার দাম আউন্সপ্রতি বেড়েছে ৫১ দশমিক ৮ সেন্ট বা ২ দশমিক ৯ শতাংশ। এদিন রুপার দাম স্থির হয় ১৮ দশমিক ৪০৭ ডলারে। এ দাম ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
ডাবলিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডকোরের গবেষণা পরিচালক মার্ক ও’বায়ার্ন বলেন, শেয়ার, বন্ড এমনকি স্বর্ণের বাজার তুলনায় অনেক ছোট হলেও স্বর্ণের মতো রুপাও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। রুপার বাজারের বর্তমান অবস্থা অনেক শক্তিশালী।

সাম্প্রতিক এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ক্রেতাদের ব্যয়প্রবণতা এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে হ্রাস পেয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বর্ণের বাজার একটি শক্ত ভিত খুঁজে পেয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির হারেও কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আইসিই ডলার সূচকের মান এরই মধ্যে কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ। সাধারণত ডলার আর স্বর্ণের বাজার বিপরীতমুখী প্রবণতায় পরিবর্তিত হলেও বুধবার কিছু ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এদিন স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে চাঙ্গা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও।

এদিকে স্বর্ণ ও রুপার পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর বাজারেও বুধবার ছিল চাঙ্গাভাব। এদিন সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে তামার দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ। প্রতি পাউন্ড তামার দাম এদিন ছিল ২.১৮৬ ডলার। বেড়েছে প্লাটিনামের দামও। অক্টোবরে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম এদিন স্থির হয় ১ হাজার ১৩ ডলার ৫০ সেন্টে।

আগের দিনের চেয়ে এ দাম ৩২ ডলার ৯০ সেন্ট বা ৩.৪ শতাংশ বেশি ছিল। একইভাবে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে ২০ ডলার ৬০ সেন্ট বা ৩.৬ শতাংশ। এদিন প্যালাডিয়ামের দাম স্থির হয় ৫৯০ ডলার ৫৫ সেন্টে।