বদলে গেল মুকুলের রায়ের টুইটার

দুপুরেও যা ছিল গেরুয়া, সন্ধ্যা নামার আগেই তা নীল আর সাদা। তৃণমূলে ফিরে এসেই মুকুল রায় বদলে ফেললেন তাঁর টুইটার হ্যান্ডল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ‘আবার তৃণমূল নেতা’ মুকুলের প্রথম টুইট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ছবি। সেই ছবিতে রয়েছেন পুত্র শুভ্রাংশুও।

করোন আক্রান্ত হওয়ার পরে বেশ কিছুদিন কোনও কিছু টুইট করেননি মুকুল। বৃহস্পতিবার চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের আগে শেষবার টুইট করেছিলেন ১৩ মে। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে। তবে তার থেকেও বেশি চর্চার বিষয় ৮ মে করা টুইট। ৩৩ দিন আগে মুকুল লিখেছিলেন, ‘রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে বিজেপি-র সৈনিক হিসেবে আমার লড়াই চলবে। আমি সকলকে কল্পনা আর অনুমান বন্ধ করার অনুরোধ করছি। আমার রাজনৈতিক পথ নিয়ে সংকল্পে অবিচল আমি।’

আসলে সেই সময় থেকেই মুকুলের বিজেপি ছাড়ার ইঙ্গিত মিলেছিল। কৃষ্ণনগর উত্তরে জয়ের পরে ৬ মে বিধানসভায় শপথ নিতে আসার দিনই মুকুলের আচরণে শুরু হয় জল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা যে গেট দিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন, সেই গেট দিয়েই ঢোকেন মুকুল। তিনি এসে তৃণমূল পরিষদীয় দলের ঘরেও যান। সেখানে এক সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলার পরে যান শপথগ্রহণ কক্ষে। প্রোটেম স্পিকার সুব্রত মুখোপাধ্যায় শপথবাক্য পাঠ করানোর পরে পরে অধিবেশন কক্ষে থাকা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গেও বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় মুকুলকে। এর পর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়, মুকুল কি তবে তৃণমূলে ফিরে যেতে পারেন? জল্পনা আরও বেড়ে যায় ঠিক তার পরের দিন ৭ মে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ডাকা বিধায়কদের বৈঠকে তাঁর গরহাজিরায়। যদিও পরের দিন সকাল হতে না হতেই টুইট করে জল্পনায় জল ঢেলে নিজের ‘সঙ্কল্প’-এর কথা জানিয়েছিলেন মুকুল। এখন এটা স্পষ্ট যে সেই সময় ‘আপাতত’ অবস্থান জানিয়েছিলেন বিজেপি-র প্রাক্তন সহ-সভাপতি।