অনেক কথা বলে দিলেন ইরান বিষয়ক মার্কিন নতুন প্রতিনিধি

ইরান বিষয়ক আমেরিকার নতুন প্রতিনিধি রবার্ট ম্যালি স্বীকার করেছেন যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের ওই নীতি আমেরিকার স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

এমএসএনবিসি টেলিভিশন চ্যানেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রবার্ট ম্যালি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণের পর তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করে।

রবার্ট ম্যালি হচ্ছেন বাইডেন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি যাকে ২০১৫ সালের পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে যখন ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু সমঝোতা সই হয় তখন তিনি মার্কিন আলোচক দলের সদস্য ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সাংবাদিক মেহেদী হাসান রবার্ট ম্যালির কাছে জানতে চান, আমেরিকা ইরানের আগে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসবে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, “আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলেছি- আমরা পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসতে প্রস্তুত যদি তারা তাদের পক্ষ থেকেও একই কাজ করে।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান যদি পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসে এবং এই সমঝোতার সমস্ত বাধ্যবাধকতা মেনে চলে তাহলে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।”

রবার্ট ম্যালি জানান, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা মার্কিন সরকারের টেবিলে রয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে আমেরিকার নিরাপত্তা কমে গেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলির একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে রবার্ট ম্যালি বলেন, ইরানের কমান্ডারকে হত্যা করার জন্য সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছিল।

জেনারেল মার্ক মিলি বলেছিলেন, ইরানি কমান্ডারকে হত্যা করা হলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ইরানি সরকার এবং জনগণকে আমেরিকার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না। এভাবে মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নগ্নভাবে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের পথে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।

অনুষ্ঠানের রবার্ট ম্যালি আরও বলেন, “আমেরিকাকে নিরাপদ রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যা করে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে যে সমস্যা তৈরি করেছেন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আমেরিকার জনগণের আছে।”

তিনি বলেন, “তিন বছরে এ কথা পরিষ্কার হয়েছে যে, আমেরিকা আগের চেয়ে এখন কম নিরাপদ কারণ ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি অনেক বাড়িয়েছে, পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করেছে এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডে নিজের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে।”