‘মাহফুজ আনামরা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত’

‘মাহফুজ আনাম তার সম্পাদিত ইংরেজি ডেইলি স্টার পত্রিকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কল্পকাহিনি ছাপিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। হিন্দু আইন সংস্কারের নামে কূটকৌশল নিয়েছেন। তারা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত।’

হিন্দু ধর্মীয় আইন পরিবর্তন প্রচেষ্টার প্রতিবাদে আজ রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) হিন্দু সম্প্রদায়ের সব ধর্মীয় সংগঠনের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তেব্যে এসব কথা বলা হয়।

একাধিক হিন্দু সংগঠনের নেতার উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলনে ১৯৩৭ সালের আইনের কথা উল্লেখ করে আরও বলা হয়,  ‘স্বামীর সম্পত্তি হিন্দু নারী পান না, এই অপবাদ দিয়ে আপনারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।’

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভােকেট প্রতিভা বাকচী। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডবোকেট বিধান বিহারী গোস্বামী, সহ-সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, মহাসচিব অ্যাডভােকেট গােবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, যুগ্ম মহাসচিব সুজন দে, অ্যাডবোকেট লাকী বাছার, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নরেশ চন্দ্র হালদার, প্রকাশনা সম্পাদক সাগরিকা মণ্ডল, হিন্দু মহাজোট ঢাকা মহানগরের সভাপতি ডিকে সমির, বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘের মহাসচিব সাগর সাধু ঠাকুর, হিন্দু আইন সংশােধন প্রতিরােধ কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভােকেট জে.কে পাল, হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, প্রণব মঠ ঢাকা’র অধ্যক্ষ স্বামী সঙ্গীতানন্দ মহারাজ, ব্রাহ্মণ সংসদের সভাপতি কর্নেল (অব.) নিরঞ্জন ভট্টাচার্য, মহাসচিব বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, ইসকনের ফুড ফর লাইফের  পরিচালক রূপানুগ গৌরদাস ব্রহ্মচারী, সত্সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি ড. রবীন্দ্রনাথ সরকার, সানতন বিদ্যার্থী পরিষদের সভাপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তী, বৈদিক সমাজ বাংলাদেশ সভাপতি স্বামী চিদানন্দ সরস্বতী, বৈদিক কৃষ্টি সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার প্রধান আচার্য রবীন্দ্রনাথ দেবনাথ, যােগী অরুণ জ্যোতি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সহদেব বৈদ্য, হরিগুরু সেবা সংঘের সভাপতি নির্মল ঠাকুর, হিন্দু ল ইয়ার্স অর্গানাইজেশনের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভােকেট নারায়ন চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভােকেট শঙ্কর দাস, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ সাধারণ সম্পাদক সাজন মিশ্র, হিন্দু মহিলা মহাজোটের সহ-সভাপতি কাকলী নাগ, দেবী হালদার, সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বিশ্বাস, বাংলাদেশ সেবা সংঘের বাবুল হাওলাদারসহ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভােকেট প্রতিভা বাগচি বলেন, ‌‘আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দেখতে পাচ্ছি যে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা সুসংহত হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে অশান্তির বীজ বপন করছে। ১০ হাজার বছরের পুরনাে এই হিন্দু পরিবার ব্যবস্থা ধ্বংস করে বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে একটি চক্র। তাদের দুরভিসন্ধি হাসিলে হিন্দু আইন সংস্কারের জন্য আইন কমিশনে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। যার নেতৃত্বে আছেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন আনাম ও তার স্বামী মাহফুজ আনাম সিন্ডিকেট। তারা হিন্দু পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজন করে ব্যক্তি কেন্দ্রীক সম্পত্তি বণ্টন, বিবাহ বিচ্ছেদ, হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ও শাস্তির বিধান, দত্তক, ভরণপােষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রীয় পবিত্র বিধি-বিধান পরিবর্তনের চক্রান্ত করছে। আর এটা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দু সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন আনাম এবং বাঁচতে শেখার পরিচালক এঞ্জেলা গোমেজের সমাজ, সম্প্রদায় ও ধর্মবিরােধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য হিন্দু সমাজ দায়ী থাকবে না। হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের কোনো ধরনের পরিবর্তন হিন্দু সমাজ সহ্য করবে না। হিন্দু ধর্মীয় বিধিবিধান রক্ষা করতে হিন্দু সমাজ সারাদেশে ব্যাপক আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং হিন্দু বিধিবিধান রক্ষা করতে যে কোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছে। আর সেকারণেই আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি তুলে ধরছি।’

১. হিন্দু আইনের কোনো ধরনের সংস্কার, পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করা হবে না। হিন্দু আইনে – কোনো ধরনের হাত দেওয়া হবে না মর্মে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে সরকারকে স্পষ্ট ঘােষণা দিতে হবে।

২. অবিলম্বে শাহীন আনামসহ যেসব এনজিও হিন্দু পরিবার, সমাজ ও ধর্মবিরােধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে হিন্দু সমাজ ও পরিবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. শাহীন আনাম গংদের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিকট শর্তহীন ক্ষমা চাইতে হবে।

আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে সরকার সুস্পষ্ট ঘােষণা দিতে ব্যর্থ হলে সারাদেশে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। এতেও কাজ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘােষণা করা হবে।