তালেবান শাসনে চীনে নির্বাসন আতঙ্কে আফগানিস্তানের উইঘুররা !

দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তান দখলে নিয়েছে তালেবান। দেশটিতে বসবাসরত উইঘুর মুসলিমরা তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। উইঘুরদের শঙ্কা, তাদেরকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার জন্য চীনে ফেরত পাঠানো হবে অথবা নানা ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।

সম্প্রতি কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করেছে তালেবান। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনাও শুরু হয়েছে। এদিকে, তালেবান আফগানিস্তানের দখল নিতে শুরু করার পর থেকেই হাজার হাজার আফগান দেশ ছেড়ে যাওয়ার হিড়িক চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর শঙ্কা, আফগানিস্তানে থাকা দুই হাজার উইঘুরের ভাগ্যে খুব খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াংয়ে ১২ মিলিয়ন উইঘুর মুসলিম অন্তত ২০১৭ সাল থেকে চীন সরকারের নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। উইঘুরদের সেখানে জন্ম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উইঘুরদের ঘরে নিয়ে গিয়ে আটককেন্দ্রে রাখা, জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, জিনজিয়াংয়ের ক্যাম্পগুলোয় বন্দি ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিম। তাদের জোরপূর্বক কম্যুনিস্ট মতার্দশে দীক্ষা দেয়া হচ্ছে। বাধ্যতামূলক শ্রমের পাশাপাশি রয়েছে ধর্ষণ, হত্যা, ধর্মীয়-বাক স্বাধীনতা হরণের মতো অভিযোগও।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বের প্রত্যেকটি অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যে স্পষ্ট, মানবাধিকার ভুল পথে যাচ্ছে। জিনজিয়াংয়ে শুধু উইঘুর মুসলিম নয় বরং সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন। এমনকি গণহত্যা চালাতেও পিছুপা হচ্ছে না চীন সরকার। বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায়, মার্কিন কূটনীতির সব কৌশল ব্যবহৃত হবে। দায়ীদের আনা হবে জবাবদিহিতার আওতায়।

এদিকে, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তার আফগান স্বামীর সঙ্গে কাবুলে বসবাস করেছেন একজন উইঘুর নারী। ‘চীনা মাইগ্রেন্ট’ হওয়ার কারণে তালেবান তাকে চীনে ফেরত পাঠাতে পারে বলে শঙ্কায় আছেন তিনি। কাবুল দখলের পর নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নারী বলেন, আমি আতঙ্কে আছি যে, তারা (তালেবান) আমাকে খুঁজতে আসতে পারে। কারণ আমি চীন থেকে এসেছি। তারা আমাকে মেরে ফেলার শঙ্কা আছে কিংবা আমাকে ফেরত পাঠাতে পারে চীনে।

আফগানিস্তানে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল তালেবান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হস্তক্ষেপে তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়। ওই সময় শরিয়াহ আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করেছিল তারা। সে সময় নারীশিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এ ছাড়া নারীর একা বাইরে যাওয়া ও ঘরের বাইরে নারীর কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সে সময় চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অঙ্গচ্ছেদের বিধানও ছিল আফগানিস্তানে। তবে এবার ঠিক কেমন সরকার হবে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে উইঘুর মুসলিমরা।