আমড়া চাষে বছরে ২৫ কোটি টাকা আয়

মাসুমা জাহান,ঝালকাঠি প্রতিনিধি:আমড়া চাষে বছরে ২৫ কোটি টাকা আয়|সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফলের তালিকায় রয়েছে আমড়া। ফরমালিন মুক্ত এ ফলটি সবাইরই প্রিয়। ঝালকাঠিতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমড়ার চাষ। লাভজনক হওয়ায় কৃষকরাও ঝুকছেন আমড়া চাষে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে আমড়া যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রতি বছর আমড়া বিক্রি করে চাষীরা ২৫ কোটি টাকা আয় করছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, বাগান করার তিন রছরের মধ্যে আমড়ার ফলন পাওয়া যায়। একনাগারে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন হয়। বাগান পরিচর্যার সামান্য কিছু খরচ ছাড়া বাড়তি কোন ব্যায় নেই। এ কারেন ঝালকাঠিতে দিন দিন আমড়ার চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। চলছে আমড়ার মৌসুম। তাই জেলার বিভিন্ন হাটে রমরমা বেচাকেনা চলছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার ভীমরুলী হাটটি সবচে বড়। এছাড়া জেলার ছোট বড় সব হাটেই কম বেশি আমড়া কেনা বেচা হচ্ছে। এসব হাট থেকে থেকে প্রতিদিন পাইকাররা আমড়া কিনে প্রতিদিন নৌ ও সড়ক পথে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সরবরাহ করছেন সারা দেশে। এবছর আমড়ার ব্যাপক ফলন হয়েছে। কৃষক পর্যায় প্রতিমন আমড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ঝালকাঠির ১৫ হাজার ৪৭০ জন কৃষক আমড়ার আবাদ করেছে। এ ফসল থেকে এবছর প্রায় ২৫ কোটি টাকা আয় হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে কৃষিবিদরা আশা প্রকাশ করছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৫০ হেক্টট জমিতে আমড়ার আবাদ হয়েছে। যা থেকে ৯ হাজার একশ মেট্রিকটন আমাড়ার ফলন পাওয়া যাবে বলে ধারনা করছে কৃষি বিভাগ।
ঝালকাঠির ভিমরুলী গ্রামের আমড়া চাষী ভবেন্দ্রনাথ হালদার বলেন, আমার দুই একর জমিতে আমড়ার বাগান রয়েছে। ফলনও ভাল হয়েছে। স্থানীয় বাজারে আমড়া কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমড়া মহাজনদের কাছে বিক্রি করি। মহাজনরা দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
ভীমরুলী গ্রামের আমড়ার আড়তদার (মহাজন) কালু হালদার বলেন, ঝালকাঠির আমড়া সুস্বাদু ও গুনগত মান ভালো। সারাদেশে এখানের আমড়ার চাহিদা রয়েছে। পাইকাররা এসে আমড়া কিনে নিচ্ছেন। ঝালকাঠিতে এককুড়ি (২০পিস) আমড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। ঢাকায় এই আমড়াই ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. ফজলুল হক বলেন, ঝালকাঠিতে যে পরিমানে আমড়া চাষ হয়, তা বিক্রি করে বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া চাষে সফলতা পেয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের সব ধরণের সহযোগিতা করা হয়।