দৈনিক কয়টি ডিম শরীরের জন্য আদর্শ?

প্রতিটি ডিমে আছে প্রায় দুইশো’ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল। আর গবেষণায় প্রমাণিত, দিনে শরীরে সর্বোচ্চ তিনশো’ মিলিগ্রামের মতো কোলেস্টেরল গ্রহণ করা যায়। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক পরিমাণে ডিম গ্রহণ না করলে শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

পুষ্টিবিদ কেরি গানস তার ‘দ্য স্মল চেঞ্জ ডায়েট’ নামের বইটিতে বলেন, এক সপ্তাহে এক ডজন ডিম একজন ব্যক্তির জন্য যথাযথ। সেই হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন দুটি ডিম খেলে ও শরীর চর্চা করলে পড়তে হবে না কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

কেরি বলেছেন, দিনে দুটি ডিম খাওয়া যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখতে হবে তার খাদ্যতালিকার দিকেও। কেননা এমন যদি হয় যে সে আগেই পর্যাপ্ত চর্বি গ্রহণ করেছে, তাহলে তার জন্য দিনে দুটি ডিম খাওয়া ঠিক হবে না। যদি একই সঙ্গে দুটো ডিমও খাবার তালিকায় থাকে আর পর্যাপ্ত পনিরও জায়গা করে নেয় একই দিনের ডায়েট চার্টে, তাহলে ক্যালরি গ্রহণ করা পরিমাণের তুলনায় বেশিই হবে।

একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য সপ্তাহে সাতটি ডিম খাওয়া উচিত। খুব একটা সমস্যা না হলে দিনে দুইটি পর্যন্ত ডিম খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রচন্ড গরমে অবশ্যই দৈনিক একটি ডিম আদর্শ।

অতিরিক্ত ডিম খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি ডিম খেলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। ডিমে থাকে প্রচুর কোলেস্টরল। তাই ডিম খাওয়ার কারণে শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে গিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এটি ডায়রিয়ার মতো অসুখের কারণ হতে পারে। তাই পরিমিত ডিম খাওয়া উচিত।

প্রতিদিন কতগুলো ডিম শরীরের জন্য ভালো, গবেষণায় এখনও সেই তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপনের ধরন ও খাবারের রুটিনের দিকগুলো বিবেচনা করে ডিম খাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। তবে ডিম যেন অতিরিক্ত না খাওয়া হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।