বিবিধ বিনােদনের রমরমায় হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস 

মাসুমা জাহান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : অজানাকে জানা ও অচেনাকে চেনার যে চিরন্তন আগ্রহ মানুষের আছে,সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের সবচেয়ে সহজ রাস্তা হল বই পড়া। এ প্রসঙ্গে কথাসাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের একটি উক্তি বিশেষ তাৎপর্য পূর্ণ। তিনি বলেছেন ‘তিনটি জিনিস মানুষের জীবনে বিশেষ ভাবে প্রয়োজন, বই, বই এবং বই’।
ঝালকাঠিতে এখন বই পড়ার ঝোঁক কমছে বলে অনুযোগ শোনা যায় হামেশাই। সাধারণ মানুষের এই ‘বই বিমুখতা’র কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে তার নানা দিক আমাদের সামনে ধরা দেয়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, মানুষের জীবনে প্রযুক্তি- নির্ভরতা বেড়ে যাওয়াই এর অন্যতম প্রধান কারণ। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে, তারই হাত ধরে আজ সবার কাছে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুলভ সুযোগ এসে পৌঁছেছে। সেই সূত্রেই বর্তমান তরুণ সমাজ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের বিভিন্ন মাধ্যমকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে|টেলিভিশনও অবশ্য কম দায়ী নয়।এ সবের ফলস্বরূপ পাঠকের সঙ্গে বইয়ের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আলগা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইন্টারনেটে গেম খেলার সর্বনাশা নেশা।
এখন পাঠ্যপুস্তকের বাইরে পড়া ব্যাপারটা শুধুই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ আর অনলাইনের কিছু পত্র-পত্রিকায় সীমায়িত। ‘ই –বুক’-এর প্রচলন হলেও তা কি হাতে বই নিয়ে পড়ার স্বাদ দিতে পারে? প্রযুক্তির প্রতি মানুষের এই যে এত বেশি ঝোঁক, তার পরিণতি কিন্তু সুখকর নয়। মানুষের আচার-আচরণেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘পাগলা গণেশ’ শীর্ষক কল্পবিজ্ঞানের গল্পে মজার ছলে তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞেরাও বলছেন, সুস্থ মানসিকতার জন্য বই পড়া খুবই জরুরি। সৃজনশীলতা, মননশীলতা—এই সব গুণাবলির বিকাশে বই খুব ভাল বন্ধু। বই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই যন্ত্র-নির্ভর সভ্যতায় আজ আমরা বড় আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হয়ে উঠছি। অথচ বই পড়ে যে নির্মল আনন্দ পাওয়া যায়, তা অন্য কিছুতে অসম্ভব। সুভাষচন্দ্র বসু যখন মান্দালয়ের জেলে বন্দি ছিলেন, তখন বই কী ভাবে তাঁকে নিঃসঙ্গতা কাটাতে সাহায্য করেছিল, তা তিনি ‘তরুণের স্বপ্ন’ গ্রন্থে খুব সুন্দর ভাবে ব্যক্ত করেছেন। আসলে বই আমাদের নিঃস্বার্থ ও শ্রেষ্ঠ বন্ধু। কবিগুরুর কথায়, ‘‘ভালো বই আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপায়।’’