পাকিস্তানে বছরে গড়ে এক হাজার সংখ্যালঘু নারী জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নারীদের ওপর নির্যাতন এখন খুবই স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতিবছর দেশটিতে গড়ে এক হাজার হিন্দু ও খ্রিষ্টান নারীকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম গ্রিক সিটি টাইমসের এক প্রতিবেদন মানবাধিকার কর্মী আশিকনাজ খোখারের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবার থেকে নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ পাকিস্তানে খুবই সাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে পাকিস্তান সরকার এই বিষয়টিকে একবারেই গুরুত্ব দিচ্ছে না উল্লেখ করে খোখার আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সম্প্রতি জোর করে ইসলাম ধর্মে অন্য কাউকে ধর্মান্তরিত করা যাবে না, এমন একটি বিল খারিজ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, প্রতি বছর প্রায় এক হাজার হিন্দু ও খ্রিষ্টান মেয়েকে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এই প্রক্রিয়া বন্ধে খুব দ্রুত সংখ্যালঘু নারীদের সুরক্ষায় আইন প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেছেন এই মানবাধিকার কর্মী।

এদিকে, কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সংখ্যালঘু এক নাবালিকাকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে মোহাম্মাদ দাউদ নামে এক বালোচ নাগরিক ১২ বছর বয়সী খ্রিষ্টান মিরাব আব্বাসকে অপহরণ করেছে বলে গ্রিক সিটি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানে নারীদের দুর্দশা দিন দিন বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে লাহোর ভিত্তিক জনপ্রিয় উর্দু ভাষার সংবাদমাধ্যম দুনিয়া নিউজ বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৭৫৪ জন নারীকে অপহরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৮৯০ জন নারী, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ হাজার ৭২১ জন এবং ৭৫২ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরে ৩০ আগস্ট নারীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান (টিআইপি)।

এদিকে, লাহোরভিত্তিক দুনিয়া নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র ইসলামাবাদেই প্রায় ৩৪টি ধর্ষণের ঘটনা সরকারিভাবে নথিবদ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি ধর্ষণের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্জাবে নারীদের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৭২১টি, যার ভেতর মাত্র ৯৩৮টি ঘটনা জনসম্মুখে এসেছে। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া